কোটি টাকার স্বর্ণ, মোবাইল-ল্যাপটপসহ যুবক আটক

বিশেষ প্রতিনিধি

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ এক যুবককে আটক করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। আটক ওই যুবকের নাম রাসেল আহমেদ (২৯)। তাঁর কাছ থেকে ছয়টি মোবাইল ফোন ও তিনটি ল্যাপটপও উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা এসব পণ্যের বাজারমূল্য ১ কোটি ৬ লাখ টাকার বেশি বলে জানিয়েছে এপিবিএন।

এপিবিএন জানায়, শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের সামনে থেকে রাসেলকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে এপিবিএন কার্যালয়ে নিয়ে তল্লাশি করে কাঁধে থাকা ব্যাগ থেকে ওই সব স্বর্ণালংকার ও পণ্য উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার ২১ থেকে ২২ ক্যারেটের। এপিবিএন আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল আহমেদ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্রের হয়ে কাজ করছিলেন। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের কাছ থেকে তিনি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সোনা ও অন্যান্য পণ্য সংগ্রহ করতেন। এই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে।

বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অপারেশনস কমান্ডার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানের অপতৎপরতা রোধে এপিবিএন সব সময় বদ্ধপরিকর। বিমানবন্দর ব্যবহার করে যেকোনো চোরাচালান রোধের কার্যক্রম বরাবরের মতোই অব্যাহত থাকবে।

২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে লিখিত জবাবে বলা হয়, প্রিভেন্টিভ টিম। পরিদর্শনের সময় কাঁচামাল পিরামিড আকারে থাকায় সঠিকভাবে পরিমাপ না করে অনুমান করে দুই হাজার ৫৬৫ মেট্রিক টন বেশি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে ছয়টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ১৪ হাজার ৫৭৭ মেট্রিক টন অপরিশোধিত চিনি আমদানি করে। একই বছরের ১ ডিসেম্বর এক্স-বন্ড বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে প্রায় ১৯ কোটি টাকার শুল্ককর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। ৮ ডিসেম্বর বন্ড কমিশনারেট থেকে ছাড়পত্র (রিলিজ অর্ডার) নিয়ে কাঁচামাল অপসারণ শুরু হয়। এর মধ্যে প্রিভেন্টিভ টিম বন্ডেড ওয়‍্যারহাউজ পরিদর্শন করে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা দাবি করেন, পরিদর্শনের সময় অবৈধভাবে অপসারণের জন্য যে দুই হাজার ৫৬৫ মেট্রিক টন চিনি মজুদ রয়েছে, কিন্তু বন্ড রেজিস্টারে উল্লেখ নেই বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। মজুদ করা কাঁচামাল এক্স-বন্ডের মাধ্যমে ছাড় নেওয়া। এ প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে অপসারণের জন্য কখনও কাঁচামাল মজুদ করে না। শুনানিতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা একই দাবি করেন। মজুদ কাঁচামাল আর বন্ড রেজিস্টার আড়াআড়িভাবে যাচাই করলে অতিরিক্ত মজুদ পাওয়া যাবে না বলেও দাবি করা হয়।