সংসদ হবে সব সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু

বিশেষ প্রতিনিধি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে রাজনীতিকে পুঁজি করে অনেক নেতা নির্বাচনের পূর্বে অতি-কথন আক্রমণাত্মক আচরণ কথার ফুলঝুরি আশ্বাসে আশ্বাসে মানুষকে নাভিশ্বাস করে তুলেছিল। নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার পর সেগুলো হাওয়ায় উড়তে থাকে। চায়ের দোকানে অফিস আদালতে বিষয়গুলো টকশোতে পরিণত হয়। আবার এক সময় কালের গর্ভে সেগুলো বিলীন হয়ে যায়। মানুষ কাজকর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ভুলে যায় সবকিছু। আর ভুলে যাওয়াটা স্বাভাবিক। ২০২৬ সালের শতাব্দীর শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এই নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন জনসভায় তারেক রহমান তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড সারা বাংলাদেশে বিতরণ করেছেন। গরিব দুঃখী অসহায় মানুষের কাছে ছিল এটা বেঁচে থাকার সম্বল।


এটাকে অবলম্বন করে তারা তিন বেলা তিন মুঠো স্বামী সন্তান নিয়ে ভাত খেতে পারবে। তাদের চোখে মুখে ছিল আনন্দের উচ্ছ্বাস। এই টাকা হাতে পেয়ে তারা অনেকে অনেক স্বপ্নের কথা বলেছেন। এটা নিয়ে বিরোধী দল নির্বাচনের সময় অনেক তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছিল, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সমালোচনার কোনো উত্তর না দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমালোচকদের সময়োচিত সমুচিত জবাব দিয়েছেন।

বিগত সরকার ঘরে ঘরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়েছিল। এই সুযোগে স্থানীয় নেতারা শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে শুরু করে সামর্থ্য অনুযায়ী অধিক অর্থ গ্রহণ করেছিলেন। পরিশেষে চাকরি তো দূরের কথা তারা টাকাগুলো শেষ পর্যন্ত ফিরে পায়নি। উদাহরণটা এজন্য যে, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পর্যায়ক্রমে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসবেন, তাই যাতে স্থানীয় নেতারা কোনো অনৈতিক অর্থনৈতিক সুবিধা তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করতে না পারে- সেদিকে সরকারকে কড়া বার্তা ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে। তা না হলে হিতে বিপরীত হবে।

পর্যায়ক্রমে কৃষি ঋণ মাফ, কৃষকদের ভর্তুকি প্রদান, তাছাড়া দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে যাকাত ব্যবস্থাকে আরও কীভাবে সুদৃঢ় করা যায়- সে ব্যাপারে প্রখ্যাত আলেম শায়েখ আহমাদুল্লাহসহ অন্য আলেমদের পরামর্শ নিয়েছেন। যা হবে স্বাধীনতা পরবর্তী কোন সরকারের নেওয়া যুগান্তকারী পদক্ষেপ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে আলেম ওলামাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়েছেন তা থেকে তিনি শিক্ষা নিয়ে দেশ পরিচালনায় আলেমদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি পরিকল্পনার মধ্যে রেখেছেন। ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে তিনি বদ্ধপরিকর। তিনি যে কতদূর যেতে চান সুশীল সমাজের অনুধাবন করার বা বোঝার বাকি নেই। কথায় বলে যে গাছটা বাড়ে অংকুরেই তার পাতা দেখলেই বোঝা যায়।

যমুনায় ইফতার পার্টিতে আলেমদের পেছনে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে কথা বলেছেন। কেন আলেমরা উঠে দাঁড়ালেন না। এটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো আহমাদুল্লাহ যখন একখানা কাগজ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেলেন তখন প্রধানমন্ত্রী উঠে দাঁড়িয়ে তার কাছ থেকে কাগজটা নিয়েছেন। দিন দিন তিনি মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন। শান্তির প্রতীক সাদা একটা শার্ট পরিধান করে সাধারণভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে দিনে দিনে তিনি অসাধারণ হয়ে উঠেছেন। রাস্তাঘাটে তেমন প্রটোকল নেই। সাধারণ মানুষ গাড়ির মধ্য থেকে সালাম দিচ্ছে, তিনিও হাত বাড়িয়ে মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। সিগন্যালে অন্য পথচারীদের মত দাঁড়িয়ে আছেন। এ এক বিরল দৃষ্টান্ত। দেশের মানুষ তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। মানুষ তাকে নিয়ে গর্ববোধ করছে।

খাল খনন কর্মসূচি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আরেকটি স্বপ্ন ছিল। আমি যখন নবম শ্রেণির ছাত্র ১৯৮১ সাল। তখন তিনি খাল খনন কর্মসূচিতে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বামন খালি গ্রামে এবং তালা উপজেলার ৩০ মাইল ভৈরব নগরে গিয়েছিলেন। খুব কাছ থেকে তাকে দেখেছি,যা আজও স্মৃতিতে অম্লান। ইতোমধ্যে মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন নিজে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। এটা হবে কৃষি ক্ষেত্রে সবুজ বিপ্লব, কারণ জাতি আয়ের শতকরা ৭৫শতাংশ আসে কৃষি থেকে। সেটার উন্নয়ন হলে কৃষকের উন্নয়ন হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে। দেশ সমৃদ্ধ হবে।

২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে লিখিত জবাবে বলা হয়, প্রিভেন্টিভ টিম। পরিদর্শনের সময় কাঁচামাল পিরামিড আকারে থাকায় সঠিকভাবে পরিমাপ না করে অনুমান করে দুই হাজার ৫৬৫ মেট্রিক টন বেশি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে ছয়টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ১৪ হাজার ৫৭৭ মেট্রিক টন অপরিশোধিত চিনি আমদানি করে। একই বছরের ১ ডিসেম্বর এক্স-বন্ড বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে প্রায় ১৯ কোটি টাকার শুল্ককর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। ৮ ডিসেম্বর বন্ড কমিশনারেট থেকে ছাড়পত্র (রিলিজ অর্ডার) নিয়ে কাঁচামাল অপসারণ শুরু হয়। এর মধ্যে প্রিভেন্টিভ টিম বন্ডেড ওয়‍্যারহাউজ পরিদর্শন করে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা দাবি করেন, পরিদর্শনের সময় অবৈধভাবে অপসারণের জন্য যে দুই হাজার ৫৬৫ মেট্রিক টন চিনি মজুদ রয়েছে, কিন্তু বন্ড রেজিস্টারে উল্লেখ নেই বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। মজুদ করা কাঁচামাল এক্স-বন্ডের মাধ্যমে ছাড় নেওয়া। এ প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে অপসারণের জন্য কখনও কাঁচামাল মজুদ করে না। শুনানিতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা একই দাবি করেন। মজুদ কাঁচামাল আর বন্ড রেজিস্টার আড়াআড়িভাবে যাচাই করলে অতিরিক্ত মজুদ পাওয়া যাবে না বলেও দাবি করা হয়।