ক্রেডিট কার্ডের সীমা বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ

বিশেষ প্রতিনিধি

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সর্বোচ্চ সীমা ২৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে আজ রোববার (১৫ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি বিস্তারিত গাইডলাইন জারি করেছে। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং গ্রাহকদের বাড়তে থাকা চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গাইডলাইনে বলা হয়, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং সুবিধাজনক লেনদেন ব্যবস্থার কারণে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতা ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংক এই হালনাগাদ নির্দেশনা জারি করেছে, যা দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও অনুমোদিত কার্ড ইস্যুকারীদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্বচ্ছ ও নগদবিহীন লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। হালনাগাদ কাঠামোতে কয়েকটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে এখন আরও কঠোর ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে, যাতে দায়িত্বশীলভাবে ঋণ প্রদান নিশ্চিত হয় এবং আর্থিক অস্থিরতার ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি গ্রাহকের অভিযোগ, কার্ডসংক্রান্ত অনিয়ম ও লেনদেনজনিত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সংশোধিত প্রক্রিয়াও চালু করা হয়েছে, যাতে ডিজিটাল লেনদেনের পরিবেশ আরও নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হয়।

এছাড়া সব কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে ইলেকট্রনিক পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) এবং অনলাইন লেনদেনের নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, দেশে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট অবকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচির কারণে একটি আরও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নির্দেশনায় বলেছে, এই প্রবৃদ্ধি যাতে আর্থিক স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকের আস্থাকে ইতিবাচকভাবে শক্তিশালী করে, সেজন্য একটি সমন্বিত ও হালনাগাদ নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। নতুন এই নীতিমালার ফলে গ্রাহকদের আস্থা বাড়বে এবং ক্রেডিট কার্ড সেবা আরও ন্যায্য, বিধিসম্মত ও গ্রাহকবান্ধব হওয়ার মাধ্যমে জাতীয় পেমেন্ট ব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে লিখিত জবাবে বলা হয়, প্রিভেন্টিভ টিম। পরিদর্শনের সময় কাঁচামাল পিরামিড আকারে থাকায় সঠিকভাবে পরিমাপ না করে অনুমান করে দুই হাজার ৫৬৫ মেট্রিক টন বেশি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে ছয়টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ১৪ হাজার ৫৭৭ মেট্রিক টন অপরিশোধিত চিনি আমদানি করে। একই বছরের ১ ডিসেম্বর এক্স-বন্ড বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে প্রায় ১৯ কোটি টাকার শুল্ককর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। ৮ ডিসেম্বর বন্ড কমিশনারেট থেকে ছাড়পত্র (রিলিজ অর্ডার) নিয়ে কাঁচামাল অপসারণ শুরু হয়। এর মধ্যে প্রিভেন্টিভ টিম বন্ডেড ওয়‍্যারহাউজ পরিদর্শন করে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা দাবি করেন, পরিদর্শনের সময় অবৈধভাবে অপসারণের জন্য যে দুই হাজার ৫৬৫ মেট্রিক টন চিনি মজুদ রয়েছে, কিন্তু বন্ড রেজিস্টারে উল্লেখ নেই বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। মজুদ করা কাঁচামাল এক্স-বন্ডের মাধ্যমে ছাড় নেওয়া। এ প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে অপসারণের জন্য কখনও কাঁচামাল মজুদ করে না। শুনানিতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা একই দাবি করেন। মজুদ কাঁচামাল আর বন্ড রেজিস্টার আড়াআড়িভাবে যাচাই করলে অতিরিক্ত মজুদ পাওয়া যাবে না বলেও দাবি করা হয়।