শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ খাতের প্রতিষ্ঠান নাভানা ফার্মা দখলচেষ্টার অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদকে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, নাভানা ফার্মা দখলচেষ্টাসহ সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটিতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবির ও মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং সহকারী পরিচালক মতিউর রহমান ও নিজাম উদ্দিন। সূত্র আরও জানায়, গত ২৮ জানুয়ারি নাভানা ফার্মার ৬৫তম পর্ষদ সভা হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পুনর্গঠিত পর্ষদের চেয়ারম্যান সাইকা মাজেদের সভাপতিত্বে সভা চলাকালে অনলাইনে যুক্ত হন কোম্পানিটির সাবেক কয়েকজন পরিচালক—আনিসুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ইমরানা জামান, সাবেক পরিচালক আদনান ইমাম ও তার বোন জাহার রসুল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসব পরিচালক পলাতক রয়েছেন এবং তাঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাঁরা নাভানা ফার্মার পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করেন, যা নিয়ম অনুযায়ী গৃহীত হয়।
সূত্রটি জানায়, পদত্যাগ করা সেসব পরিচালক হঠাৎ গত ২৮ জানুয়ারির সভায় অনলাইনে যুক্ত হন। তাঁদের অনলাইনে ওই সভায় যুক্ত করেন কোম্পানির এক কর্মকর্তা। এ অবস্থায় ওই দিন তড়িঘড়ি করে ওই সভা শেষ করা হয়। পরে এ বিষয়ে বিএসইসিতে অভিযোগ দেন কোম্পানির চেয়ারম্যান সাইকা মাজেদ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিএসইসি কোম্পানির একাধিক পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার শুনানি করেন। বিএসইসির শুনানিতে কোম্পানিটির ২৮ জানুয়ারি পর্ষদ সভায় নানা অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এ ছাড়া ৬৪তম পর্ষদ সভায়ও বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রমাণ পায়। যদিও ৬৪তম পর্ষদ সভার বিষয়ে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান কিছু জানেন না বলে কমিশনকে জানিয়েছেন। ওই সভায় কোম্পানির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) সাঈদ আহমেদকে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) করার পাশাপাশি তার মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানানো হয়। যদিও কোম্পানিটির চেয়ারম্যান সাইকা মাজেদ বিএসইসিতে অভিযোগ করেছেন, ওই সভার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর পালিয়ে যাওয়া নাভানা ফার্মার সাবেক পরিচালকদের একটি অংশ আবারও কোম্পানিতে ফেরার চেষ্টা করছে। অভিযোগ রয়েছে, কোম্পানির কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় তারা জোরপূর্বক পর্ষদ সভায় অংশ নেওয়া এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ কারণে পুরো বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। একই সঙ্গে কোম্পানির ৬৪তম ও ৬৫তম পর্ষদ সভার কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ওই দুই সভা আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়েছিল কি না, সেখানে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বৈধ ছিল কি না, পরিচালক পরিবর্তন ও কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানির ৬৩তম পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের পুনর্বহাল করেছে কমিশন।