৪০ কোটি টাকা পাচার করেছেন বিডার সাবেক সদস্য

বিশেষ প্রতিনিধি

৪০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সাবেক নির্বাহী সদস্য মো. খায়রুল ইসলাম (মান্নান), তার স্ত্রী ইসরাত জাহান মিম ও ছেলে মোরসালিন ইসলাম সৌরদ্বীপের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শুক্রবার (৬ মার্চ) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, অভিযুক্তরা মেঘমালা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও মেঘমালা স্টেট লিমিটেড নামে দুটি নামসর্বস্ব কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ২০১২ সালে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক গুলশান শাখা থেকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নামে ২০ কোটি টাকা করে মোট ৪০ কোটি টাকা ঋণ নেন।

সিআইডির অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ঋণের অর্থের প্রকৃত উৎস আড়াল করতে তা বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে ঋণের ওই অর্থ মোরসালিন ইসলাম সৌরদ্বীপের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ধানমন্ডি শাখার হিসাবে জমা করা হয়। পরে সেখান থেকে ৪০ কোটি টাকা ডেবিট করে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক বনশ্রী শাখায় ‘ইউনিয়ন ব্যাংক (প্রস্তাবিত)’ নামে একটি হিসাবে জমা দেওয়া হয়।

প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া ওই ঋণের অর্থ দিয়ে মোরসালিন ইসলাম সৌরদ্বীপ ইউনিয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠালগ্নে স্পন্সর শেয়ার কেনেন। এভাবে আসামিরা ঋণের ৪০ কোটি টাকা পরিশোধ না করে প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করেন এবং অপরাধলব্ধ অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করেন। এ ঘটনায় সাবেক সচিব ও বিডার সাবেক নির্বাহী সদস্য খায়রুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে লিখিত জবাবে বলা হয়, প্রিভেন্টিভ টিম। পরিদর্শনের সময় কাঁচামাল পিরামিড আকারে থাকায় সঠিকভাবে পরিমাপ না করে অনুমান করে দুই হাজার ৫৬৫ মেট্রিক টন বেশি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে ছয়টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ১৪ হাজার ৫৭৭ মেট্রিক টন অপরিশোধিত চিনি আমদানি করে। একই বছরের ১ ডিসেম্বর এক্স-বন্ড বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে প্রায় ১৯ কোটি টাকার শুল্ককর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। ৮ ডিসেম্বর বন্ড কমিশনারেট থেকে ছাড়পত্র (রিলিজ অর্ডার) নিয়ে কাঁচামাল অপসারণ শুরু হয়। এর মধ্যে প্রিভেন্টিভ টিম বন্ডেড ওয়‍্যারহাউজ পরিদর্শন করে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা দাবি করেন, পরিদর্শনের সময় অবৈধভাবে অপসারণের জন্য যে দুই হাজার ৫৬৫ মেট্রিক টন চিনি মজুদ রয়েছে, কিন্তু বন্ড রেজিস্টারে উল্লেখ নেই বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। মজুদ করা কাঁচামাল এক্স-বন্ডের মাধ্যমে ছাড় নেওয়া। এ প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে অপসারণের জন্য কখনও কাঁচামাল মজুদ করে না। শুনানিতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা একই দাবি করেন। মজুদ কাঁচামাল আর বন্ড রেজিস্টার আড়াআড়িভাবে যাচাই করলে অতিরিক্ত মজুদ পাওয়া যাবে না বলেও দাবি করা হয়।